GuidePedia

জাত গেল জাত গেল’ বলে যারা মানুষকে খাটো করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে বহু আগেই কণ্ঠ তুলেছিলেন জগদ্বিখ্যাত মানবতাবাদী লালন শাহ। প্রেম তো মানুষের সঙ্গে মানুষেরই হবে, তাই কিনা? এতে আবার জাত-কুলের বা ধর্মের বাড়াবাড়ি কেন?  হ্যাঁ, সমাজভেদে, ধর্মভেদে অনেক নিয়মকানুন থাকতে পারে, তা সত্য। কিন্তু প্রেমে বাধা? তা কোনো মতে মানতে রাজি নয় ‘লাভ কমান্ডোরা’। তাই তারা গঠন করেছেন, ‘লাভ কমান্ডোস’ নামে একটি সংগঠন। প্রেমকে মানবমিলনের জন্য পবিত্রজ্ঞান করে, এমন একদল প্রেমপূজারী গড়ে তুলেছেন এই সংগঠন। ভারতে ‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে যখন তোলপাড় চলছে, তখন লাভ কমান্ডোস এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। লাভ জিহাদ হলো ‘হিন্দু মেয়েদের সঙ্গে মুসলিম ছেলেদের বিয়ের নীলনকশা।’ অর্থাৎ একটি অজ্ঞাত সংঘবন্ধ চক্র ভারতে মুসলিমের সংখ্যা বাড়াতে এবং হিন্দু ধর্মের অবমাননা করতে লাভ জিহাদ পরিচালনা করছে। এটি কতটুকু সত্যি, তা প্রমাণ না থাকলেও কতিপয় হিন্দু নেতার অভিযোগ এমনই।



আর লাভ কমান্ডোস বলছে, জাত-বর্ণ, ধর্ম-স্থান প্রেমের জন্য কোনো বাধা হতে পারে না। প্রাপ্তবয়স্ক যে কোনো মানুষ তার ভালোলাগা থেকে যে কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে পারে এবং বিয়ে করে সংসারী হতে পারে। এতে মানবতার মহামিলন প্রসারিত হয় ছাড়া কমে না। তাই তারা প্রেমকে পূর্ণতা দিতে যেকোনো সাহায্যপ্রার্থীকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করে থাকেন। পাঠক, আপনারা হয়তো বুঝতেই পারছেন, লাভ কমান্ডোস ভারতীয়দের একটি সংগঠন। নয়াদিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকায় এর অফিস। এখান থেকে তারা প্রেমিক-প্রেমিকাদের সাহায্য করে চলেছেন। সংগঠনটির সভাপতি সঞ্জয় সাচদেব জানিয়েছেন, লাভ কমান্ডোসের বয়স ৪ বছর। এ অল্প সময়ে তারা ৩০ হাজারের বেশি প্রেমিক-প্রেমিকাকে যুগলবন্দি হতে সাহায্য করেছেন।  শুধু তা-ই নয়, প্রেমের কারণে বাবা-মায়ের বা পরিবারের নির্যাতন থেকে রক্ষা, পুলিশের হয়রানি থেকে নিরাপদ রাখা এমনকি প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য বিয়ে-পরবর্তী সময়ে আবাসনের ব্যবস্থা পর্যন্ত করে থাকে স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি।



২০১০ সালে একটি ছেলের বিরুদ্ধে মেয়ে ভাগিয়ে আনার মিথ্যা মামলা হওয়ার পর এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে লাভ কমান্ডোস সৃষ্টি হয়। তখন দিল্লির কয়েকটি দম্পতির উদ্যোগে সংগঠনটি গড়ে উঠলেও এখন এর সদস্য সংখ্যা কয়েক শ। সদস্যদের অর্থায়নে চলে এটি। তবে সংগঠনটি তাদেরকেই সাহায্য করে, যাদের বয়স ১৮ বছরের ওপরে এবং যারা অপরাধী নন।



তথ্যসূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অনলাইন।

 
Top