শারদোৎসবের মণ্ডপ জুড়ে ছড়িয়ে থাকে ওদের তৈরি চোখ জুড়ানো প্রতিমা। সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষেরা সারাবছর অপেক্ষায় থাকেন এ দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা দেখার জন্য। তাই পূজার উদ্যোক্তারাও বৈশাখ মাস পড়তে না পড়তেই বায়নার টাকা হাতে ছুটে যান প্রতিমা কারিগরের কাছে। কিন্তু মাগুরায় এবার যেন সে চিত্র নেই। জেলায় এ বছর প্রতিমা তৈরির ভালো কারিগর মিলছে না। আয়োজকরা জানিয়েছেন, দক্ষ শ্রমিকের অভাবে বাধ্য হয়ে এবার দুর্গাপূজোয় কম প্রতিমা তৈরি করছেন তারা।মাগুরা শহরের নতুন বাজার। প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত অশোক পাল। বছরের এই সময়টাতে তার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তৈরি করতে হয় দুর্গা প্রতিমা। সকাল থেকে রাত অবধি নিরন্তর চলে রংতুলির আঁচড়। নিখুঁত অভিব্যক্তিতে ফুটিয়ে তোলা হয় দেবী প্রতিমাকে।
‘কিন্তু এবার যেন এখানে সে চিত্র নেই’- বললেন, অশোক পাল। ‘উপযুক্ত শ্রমিক-কারিগরের অভাবে এবার চোখ ভোলানো প্রতিমা তৈরি সম্ভব হচ্ছে না’- যোগ করেন, তিনি।
শিল্পীদের বক্তব্য, গত কয়েকবছর ধরেই পুজোর মৌসুমে কারিগর নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন তারা। কারিগরের অভাবে নিজেদের সুনাম বজায় রেখে প্রতিমা তৈরি করা মুশকিল হয়ে পড়ে। এবার তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে কমিয়ে দিয়েছেন প্রতিমার সংখ্যা।
অশোক পাল জানান, গত বছর তিনি ১০টি দুর্গাপ্রতিমা গড়লেও, এ বছর সে সংখ্যা কমিয়ে এনেছেন ছয়ে। একইভাবে, পার্শ্ববর্তী শিল্পী জীবন ঘোষ গতবারের পাঁচটির জায়গায় এবার তৈরি করছেন তিনটি প্রতিমা। অভিমানী সুরে জীবন ঘোষ বলেন, ‘দক্ষ লোকের বড় অভাব। আজকাল আর এসব কাজ কেউ করতে চায় না। কারন, অন্য কাজে এর চেয়ে অনেক বেশি উপার্জন করা যায়।’
প্রতিমাশিল্পী বীরেন বিশ্বাস জানান, এই সময়ের সবচে’ বড় সঙ্কট হল মাটি মেখে জীবিকা উপার্জন করতে শিল্পীদের ঘরের ছেলেরাই আগ্রহী নয়। তাহলে অন্য পেশার মানুষ এখানে কেন আসবে? এ পেশায় শুধুমাত্র এই একটি মৌসুম ছাড়া সারাবছর কোনো কাজ থাকে না। তখন কী করে দিন চলবে- সেই অনিশ্চয়তার কারণেই লোক কমে যাচ্ছে এ পেশায়। তাই, স্বাভাবিকভাবেই কমছে প্রতিমার সংখ্যাও।
উল্লেখ্য, জেলার চার উপজেলার ৫৪০টি মন্দিরে এবার দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এগুলোর মধ্যে সদরে ১৮৬টি, শ্রীপুরে ১২৯টি, শালিখায় ১২৫টি ও মহম্মদপুরে ১০০টি মন্ডপে প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে।