GuidePedia

 জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অনুসারী রংপুর নবগঠিত জেলা ও মহানগর কমিটির বিক্ষোভ মিছিলে বোমা হামলা হয়েছে। শনিবার দুপুরে নগরীর শাপলা চত্বরে এ বোমা হামলায় সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ২৮ জন আহত হয়েছেন। নবগঠিত জেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা এ ঘটনার জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গার সমর্থকদের দায়ী করেছেন।   বেশ কয়েক দিন ধরেই জাতীয় পার্টির দুই পক্ষ- প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সমর্থক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গার সমর্থক গ্রুপের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার সকালে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে সমাবেশ ছিল নবগঠিত জেলা ও মহানগর জাপার। একই স্থানে প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গার সমর্থকরাও সভার ডাক দেন। ফলে শুক্রবার রাতে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। সভাস্থলে ১৪৪ ধারা জারির কারণে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ভাতিজা ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য এইচ এম আসিফ শাহরিয়ারের সমর্থকরা এরশাদের পৈতৃক নিবাস নগরীর সেনপাড়ার স্কাইভিউ বাড়িতে সমাবেত হয়ে বিক্ষোভ করেন। এর আগে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জাপা এরশাদের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হতে থাকেন। এদিকে বেলা ১১টা থেকে নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ জেলা জাপা কার্যালয়ে রাঙ্গার সমর্থক নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিয়ে রাঙ্গার সমর্থনে মিছিল করতে থাকেন। পুলিশ তাদের কর্ডন করে রাখে। দুপুর ১২টার দিকে এরশাদ সমর্থিত জাপার নেতা-কর্মীরা আসিফের নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল নিয়ে নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় পৌঁছালে রাঙ্গা সমর্থক নেতা-কর্মীরা পর পর পাঁচটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় এরশাদ সমর্থিত জাপার নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।



প্রায় পৌনে এক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে দৈনিক করতোয়ার প্রতিনিধি বাপ্পি ও দলীয় নেতা-কর্মীসহ ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে রাঙ্গা সমর্থক নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দ্রুত সটকে পড়েন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নবগঠিত জেলা কমিটির সদস্যসচিব আসিফ শাহরিয়ার সাংবাদিকদের জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার নেতৃত্বে একটি মিছিল স্কাইভিউ থেকে বের হয়ে নগরীর শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার জন্য সেখানে উপস্থিত হয়। রাঙ্গার সমর্থকরা মিছিলে বেশ কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় ও গুলি ছোড়ে। বোমাটি মিছিলের মাঝামাঝি পড়লে স্প্লিন্টারের আঘাতে সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। সদর থানার ওসি আবদুল কাদের জিলানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আর যাতে সহিংস ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
 
Top